অনুগল্প ১
।। বাসা ।।
আমার লেখা পড়ার টেবিল টা পূব মুখো আর তার সামনে সবুজের সমারোহ । আম , তাল , বাবলা , গুলঞ্চ সব গাছই উপস্থিত আর উত্তর , পূর্ব কোনে সবাই কে ছাড়িয়ে মাথা উঁচু কোরে দাঁড়িয়ে রুদ্রপলাশ । তার গায়ে লেগেছে বসন্তের ফোঁটা – সবুজ শাড়িতে যেন কমলা বুটির কাজ । সেই গাছ গুলিতে অসংখ্য পাখির বাস - ,ঘুঘু , টিয়ে , দোয়েল , ল্যাজ ঝোলা ফিঙে সবই আছে । তারা আসে , বসে , কাঠবিড়ালি দের সঙ্গে খানিক নাচন কোদন করে আবার বাগানের চৌবাচ্চার জলে স্নান সেরে বাসায় ফেরে । তাদের ঝগড়া ঝাঁটি , প্রেম বিনিময় কোলাহল সবই শুনতে পাই – নীচে মানব সম্প্রদায় উপরে পক্ষী সমাজ নিজ নিজ প্রক্রিয়ায় বিবাদের ভিন্ন ভাষায় কলহে মেতে ওঠে । হটাৎ মনে হলো তাদের কলহ যেন আমার পুবের জানালায় এসে উঠেছে , তাকিয়ে দেখি ঠিক তাই । এদের প্রত্যেকে একজন করে সমস্ত পাখির প্রতিনিধি স্বরূপ আমার জানালায় এসে জড়ো হয়েছে । তাদের উত্তেজনা বেশ অনুভব করা যায় । যার যতটুকু ল্যাজ তা যেন খাড়া হয়ে রয়েছে , বক্তব্য জমে গলা ফুলে উঠেছে , ঘন ঘন চোখের পাতা পড়ছে এক অব্যক্ত রক্তচাপ দমনের অভিপ্রায়ে । একটি টিয়ে গলা বাড়িয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে এলো আমার টেবিলের উপর । সবুজ ঘাড় বেঁকিয়ে , লাল ঠোঁট উল্টিয়ে জিজ্ঞেস করলো ‘আচ্ছা বলো তো বাপু , তোমরা নাকি সামনের গাছ গুলো কেটে দেবে রাস্তা করার জন্য , পাঁচিল গড়ার জন্য ? ভাবলাম ঠিক কথা এ তো আমাদের সকলের জানা – গাড়ি গাড়ি লোক এসে রোজ দিনের মাপ যোগ , জেসিপি এনে মাটির খনন কার্য্য চলছে , কিছুটা পাঁচিলও সম্পূর্ণ , গাছ যে কাটা পড়বে ভবিষ্যতে সেও নিশ্চিত কিন্তু এরা এসব জানলো কি করে ? এরা তো পাখি ? বিরক্ত হয়ে বললাম ‘আরও অনেক গাছ আছে সেখানে চলে যাও’ । ঠোঁট ঝুলিয়ে টিয়ে পাখি টুক টুক করে এগিয়ে এলো , পিছনের জোড়া জোড়া চোখ গুলো রক্তিম হয়ে চেয়ে রইলো আমার দিকে । টিয়ে বলে উঠলো ‘ তাই না কি হে ? তা মাটি তো আরও অনেক আছে , তোমার এই ঘর খানি থেকে তোমায় সরিয়ে দিলে যাবে তো সেখানে ?’ আর এক পা এগিয়ে এসে কানে কানে বললো ‘কাগজ আছে ? দেখাবে তো ?’ ধড়াস করে চোখ মেলে তাকালাম , নীচে থেকে জীবনসঙ্গিনী ডাকছে ‘খেতে এসো’ । পুবের জানালা টা বন্ধ কোরে নেমে এলাম , হৃৎপিন্ড তখনও কাঁপছে ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন